আরো একটি ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ!!

0
875
মহাকাশে বাংলাদেশ
ShyamSundarCoJwellers

অবশেষে বাংলাদেশের সকল মানুষের বহুল প্রতাশিত স্বপ্নের একটি অংশ পূরণ হতে যাচ্ছে । বাংলাদেশ তৈরি করতে যাচ্ছে আর একটি ইতিহাস, রাখতে যাচেছ নিজেদের পদধুলি মহাকাশে৤ আর কয়েক ঘন্টা পরেই মহাকাশের বুকে পাড়ি জমাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। আর যার ফলে দেশের যোগাযোগ মাধ্যম পা দিবে আরো উন্নত পর্যায়ে।

আজ ১০ই মে বিকেলে (ফ্লোরিডা সময় ৪ঃ১২ মিনিট, বাংলাদেশ সময় রাত ২ঃ১২ মিনিটে ) ফ্যালকন ৯ এর নয়টা মার্লিন ইঞ্জিন ১৬২ সেকেন্ড ধরে পুড়ে ১৮ লক্ষ পাউন্ড থ্রাস্ট তৈরী করে মহাকাশে নিয়ে যাবে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু -১। তাই আজ সব রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ছোট্ট শিশুদের মতন উৎসব করার দিন। থমকে থাকুক সারা বাংলাদেশ এই ১৬২ সেকেন্ড। রাস্তায় সব গাড়ি থেমে থাকুক। সব হর্ন বাজুক (হাসপাতালের সামনে নয়)। সবগুলো সাইরেন বেজে উঠুক। আজান হোক প্রতিটি মসজিদে যেমন হয় ঝড়ের সময়। তোপধ্বনি হোক ২১ বার থেকে এই ১৬২ সেকেন্ড ধরে। ঢোল বাজুক, ভুভুজেলা বাজুক সবার বাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে। আগামীকাল সব স্কুলে জাতীয় সংগীত গাওয়া হোক তারপর শিক্ষার্থীদের বলা হোক কি অসাধারণ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। অকারনেই হাসুক বাংলাদেশের সব মানুষ। মুষ্টিবদ্ধ ৩২ কোটি হাত উঠুক বলার জন্য, “হ্যাঁ আমরাও পারি”। বাংলাদেশের সব মানুষ জানুক মহাকাশে আজ বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা যাচ্ছে। এই ১৬২ সেকেন্ড হয়ে উঠুক দুনিয়া কাপানো ১৬২ সেকেন্ড। এই বিশ্ব জানুক, আমরা আছি।প্রযুক্তিবিদ খাতের এক অপার, অসীম সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে এর মাধ্যমে৤ বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ব্যয় করছে বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যাত্রা শুরু করলে এই বিপুল অর্থ দেশেই থেকে যাবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এরমধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মূদ্রা আয় সম্ভব। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণ কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এটি পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যত্রম সম্পাদনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরী লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

#খুঁটিনাটি
#বঙ্গবন্ধু-১
কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকল্প

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (BS-1) বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহ ।
এটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে।

বঙ্গবন্ধু-১

মিশনের ধরণঃ যোগাযোগ
অপারেটরঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
ওয়েবসাইটঃ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প
মিশনের সময়কালঃ ১৫ বছর
মহাকাশযানের বৈশিষ্ট্যঃ বাস
Spacebus 4000
প্রস্তুতকারকঃ Thales Alenia Space
লঞ্চ ভরঃ ৩,৫০০ কেজি (৭,৭০০ পা)
ক্ষমতাঃ 6kW

মিশন শুরু
উৎহ্মেপণ তারিখঃ ১০ মে, ২০১৮ (4:12 pm / BD TIME 2:12 am)
উৎহ্মেপণ রকেটঃ ফ্যালকন ৯ ফুল থ্রাস্ট.
উৎহ্মেপণ স্থানঃ কেনেডি স্পেস সেন্টার লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯
কন্ট্রাক্টরঃ স্পেস এক্স
কক্ষপথের পরামিতিঃ আমল
জিও
দ্রাঘিমাংশঃ ১১৯.১° পূর্ব
ট্রান্সপন্ডারঃ ব্যান্ড
১৪ সি ব্যান্ড, ২৬ কু ব্যান্ড

বিবরণঃ
বঙ্গবন্ধু-১ কৃত্রিম উপগ্রহটি ১১৯.১° ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার ভূস্থির স্লটে স্থাপিত হবে। এটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়। এটি থালস অ্যালেনিয়া স্পেস কর্তৃক নকশা এবং তৈরি করা হয়েছে এবং এটি স্পেস এক্স থেকে উৎক্ষেপণ করার জন্য অপেক্ষা করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ১৬০০ মেগাহার্টজ ক্ষমতাসম্পন্ন মোট ৪০টি কু এবং সি-ব্যান্ড ট্রান্সপন্ডার বহন করবে এবং এটির আয়ু ১৫ বছর হওয়ার কথা ধরা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি।

Advertisements IBGNewsCovidService
USD

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here