কেন বিশ্বকর্মাকে জগৎ সংসারের স্রষ্টা বলা হয় – বহু অজানা তথ্য

0
85
Vishwakarma Puja
Vishwakarma Puja
ShyamSundarCoJwellers

কেন বিশ্বকর্মাকে জগৎ সংসারের স্রষ্টা বলা হয়। (বহু অজানা তথ্য দেওয়া হল।)

গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার মতে ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর হয় বিশ্বকর্মা পূজা। এ বছর বিশ্বকর্মা পুজো পড়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। ভাদ্র মাসের শেষ দিনে কন্যা সংক্রান্তিতে (ওড়িশা, বাংলা, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে এই নামেই পরিচিত) বিশ্বকর্মা পুজো হয়। বিশুদ্ধসিদ্ধান্তের নিয়ম মেনে বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি হিসেব করা হয়। এবছর বিশ্বকর্মা পুজোর সিদ্ধিযোগ প্রাত শুরু হবে ৬টা ৭ মিনিটে।

বিশ্বকর্মা পুজো নির্ধারণ হয় সূর্যের গতি নির্ধারণ করে। কন্যা সংক্রান্তি শুরু হবে রাত ১টা ২৯ মিনিটে রাহুকাল শুরু হবে সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে। শেষ হবে ১২টা ১৫ মিনিটে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে পুজোর তিথি শুক্ল পক্ষ একাদশী ঘ ৮টা ৩৪ মিনিট ২৫ সেকেন্ড পর্যন্ত। এই পুজোয় একাধিক মন্ত্র রয়েছে। বিশ্বকর

প্রতি বছরই ঠিক এই সময়টাতেই রাস্তার ফুটে, দোকানে, হাটে-বাজারে শুধু ঘুড়ির, লাটাই ও মাঞ্জা সুতোর মেলা বসে যায়। আকাশে ঘুড়িতে ঘুড়িতে ছেয়ে উঠেছে আকাশ। একটা সময় ছিল আমাদের এলাকায় প্রচুর কোম্পানি ছিল (আজ মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা)। নিমন্ত্রণ পেতাম ভুরিভোজের।ব্যবসায়ী থেকে নেতা রিক্সা চালক থেকে কেরানি সন্ধ্যের রকে বসে কোন কোম্পানি কেমন খাওয়াল সেই নিয়ে গুলতানি হত। আজ, আর সেই দিন নেই , তবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন প্রচুর বিশ্বকর্মা পুজো হয়। আবালবৃদ্ধবনিতা, এখনও প্রায় সবারই ১৭-ই সেপ্টেম্বর মন আনচান করে ওঠে। হয়তো সেই উপলব্ধি বুঝেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অর্ধদিবস ছুটি দিয়ে দেন। আর প্রতিবছর এই সময় মর্তে পুজো নিয়ে, বিশ্বকর্মা আর ছড়িয়ে দিয়ে যান একমুঠো স্নিগ্ধ শিউলী ভেজা দুর্গাপুজোর গন্ধ ও একরাশ ভালোবাসা, প্রেম ও প্রীতি।

ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মাই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা তৈরি করেন। ঈশ্বরের প্রাসাদের নির্মাতাও বিশ্বকর্মা। দেবতাদের রথ ও অস্ত্রও তৈরি করেছিলেন এই বিশ্বকর্মাই।

মহাভারত অনুযায়ী বিশ্বকর্মা হলের শিল্পকলার দেবতা, সকল দেবতার প্রাসাদ, সকল প্রকার অলঙ্কারের নির্মাতা। বিবরণ অনুযায়ী তাঁর চার বাহু, মাথায় রাজার মুকুট, হাতে জলের কলস, বই, দড়ির ফাঁস ও অপর হাতে একটি যন্ত্র।
জগৎ সংসারের স্রস্টা কে? কোনও একজন দেবতাকে যদি জগতের সৃষ্টিকর্তা রূপে চিহ্নিত করতে হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বকর্মার নামই বলতে হয়। কারণ, বেদে বিশ্বকর্মাকে বিশ্বস্রষ্টা বলা হয়েছে। পুরাণে অবশ্য বিশ্বকর্মার মূল পরিচয় তিনি দেবশিল্পী।
বিশ্বকর্মা অলংকার ও ভূষণ প্রস্তুতকারক। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য বিশারদ। তাঁর স্থাপত্য বিদ্যার উল্লেখযোগ্য কাজ— কুবেরের অলকাপুরী, লঙ্কার প্রাসাদ, কৃষ্ণের দ্বারকাপুরী প্রভৃতি। এমনকি স্বর্গলোকও নাকি তাঁরই হাতের জাদুতে গড়া। হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থ তাঁরই পরিকল্পনা। তাছাড়া মৎস্য পুরাণের মতে কূপ ও জলাশয় খনন, প্রতিমা নির্মাণ, বাড়ি ও বাগানের পরিকল্পনা এইসব কাজ ও শিল্পের উদ্ভাবক হচ্ছেন বিশ্বকর্মা।

ওঁ দংশপালঃ মহাবীরঃ সুচিত্রঃ কর্মকারকঃ।
বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃকতঞ্চ বাসনামানো দণ্ডধৃক।।
ওঁ বিশ্বকর্মণে নমঃ। ……

ধ্যান ও প্রনাম মন্ত্র অনুসারে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার যে চিত্র পাওয়া যায়- তাতে তিনি একাধারে মহাবীর ও দয়াদি অষ্টগুন যুক্ত । তিনি সৃষ্টির নির্মাতা ও ধাতা । তিনি মান দণ্ড ধারী মহাশিল্পী। আবার তিনি মহাযোদ্ধা।
ঋক্ বেদের দশম মণ্ডলের দুটি সুক্তে ( ৮১, ৮২) বিশ্বকর্মার স্তুতি পাওয়া যায়। সেই ভাবার্থ অনুসারে – দ্যুলোক ও ভূলোক উভয়ই প্রথমে জলাকার ও সম্মিলিত ছিল। ক্রমে উভয়েরই চতুঃসীমা যতই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় তারা পরস্পর দূরবর্তী হতে হতে ক্রমে সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যায় । সুধীর বিশ্বকর্মা মনে মনে চিন্তা ও উত্তম রূপে নিরীক্ষণ করে এই বিরাট সৃষ্টি চক্র প্রবর্তন করেন। এই বিশ্ব তাঁরই কর্ম বলে তিনি বিশ্বকর্মা।

বেদে যিনি মুখ্যতঃ বিশ্বস্রষ্টা , পুরানে তাঁকে দেখি দেবশিল্পী হিসাবে। তিনি “কর্তা শিল্প সহস্রাণাম” অর্থাৎ তিনি সহস্র শিল্পের অধিকর্তা।

তিনি “দেবানাং কার্য্যসাধকঃ” অর্থাৎ দেবতাদের শিল্পের কার্য্য সাধক। বিশ্বকর্মার জন্ম বিষয়ে পুরানে নানা আখ্যানের অবতারনা করা হয়। কোনো পুরান মতে তাঁর জন্ম অষ্টবসুর অন্যতম প্রভাসের ঔরসে দেবগুরু বৃহস্পতির ভগিনী বরবর্ণিনীর গর্ভে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিদেশ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি বলে লেখা আছে। বেদে এই বিশ্বকর্মাকে অজাত পুরুষ বা সনাতন পুরুষ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বকর্মা নানান শিল্প রচনা করেন। কুবেরের মহল, স্বর্গের দেবসভা, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা পুরী, জগন্নাথের বিগ্রহ, রাবনের স্বর্ণ লঙ্কা, ভগবান শিবের ধনুক, ত্রিশূল- সব এঁনার সৃষ্টি। এছাড়া মার্কণ্ড পুরানে দেখতে পাই ইনি দেবীকে অভেদ্য কবচ, পরশু ও নানান অস্ত্র প্রদান করেছিলেন। বিশ্বকর্মার হস্তে দাঁড়িপাল্লা থাকে। দাঁড়িপাল্লার দুটি পাল্লা জ্ঞান ও কর্মের প্রতীক। উভয়ের সমতা বজায় রেখেছেন তিনি। এছাড়া তিনি হাতুরী ধারন করেন- যা শিল্পের সাথে জড়িত। তিনি যে শিল্পের দেবতা।

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকর্মা দেবতাদের শিল্পী। তিনি দেবশিল্পী নামে পরিচিত। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা এবং অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি।

বিশ্বকর্মা বৈদিক দেবতা, ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলে ৮১ এবং ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋগবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সবদিকে পরিব্যাপ্ত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। তিনি ধাতা, বিশ্বদ্রষ্টা ও প্রজাপতি।

বিশ্বকর্মার জন্ম নিয়ে নানা পুরাণে নানা রকম কাহিনি রয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে ব্রহ্মার নাভিদেশ থেকে বিশ্বকর্মার জন্ম। ভবিষ্যপুরাণ মতে, অষ্টবসুর অন্যতম প্রবাসের ঔরসে এবং বৃহস্পতির ভগিনী বরবর্ণিনীর গর্ভে বিশ্বকর্মার জন্ম। স্কন্দপুরাণে বিশ্বকর্মার পাঁচটি মুখ ও দশটি হাত।

এখন বিশ্বকর্মার যে মূর্তি সর্বত্র পূজিত হচ্ছে, সেই মূর্তির উদ্ভাবক হচ্ছেন কর্মকার সম্প্রদায়ের প্রবক্তা হরষিত কেশরী রায়। অষ্টাদশ শতকে তিনিই প্রথম কলকাতায় এই মূর্তির পুজো প্রচলন করেন।
বিশ্বকর্মা কেবল নিজেই একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি অনেক শিল্পীরও স্রষ্টা। শ্রীরামচন্দ্রের লঙ্কা অভিযানে সমুদ্রগর্ভে যে বিশাল সেতু নির্মাণ হয়েছিল সেই সেতুর নির্মাতা হলেন বিশ্বকর্মার পুত্র। পদ্মপুরাণ অনুসারে দৈত্যশিল্পী ময় বিশ্বকর্মার পুত্র। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে শিল্পী ত্বষ্টাও বিশ্বকর্মার পুত্র। বেদে এই ত্বষ্টাকে দেবশিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে সমস্ত পুজো তিথি মেনে হলেও একমাত্র বিশ্বকর্মা পুজো সূর্যের স্থান পরিবর্তন অনুযায়ী হয়। এদিন ভাদ্র-সংক্রান্তির দিন সূর্য সিংহ লগ্ন থেকে কন্যা লগ্নে প্রবেশ করে। বৃহৎসংহিতা গ্রন্থ মতে, গ্রীষ্মান্তে যে সূর্য মেঘ রচনা করে বর্ষণের মাধ্যমে কৃষিকর্ম সংরক্ষণ করেন তিনিই বিশ্বকর্মা। বিশ্বকর্মা কৃষিরও দেবতা। তাই তাঁর বাহন হাতি। এদিন কোনও কোনও স্থানে যে ‘রান্নাপুজো’ প্রচলিত রয়েছে, সেও সম্ভবত ওই প্রাচীন শস্যোৎসবের স্মৃতিবাহী।

স্বয়ং বিশ্বকর্মার কিছু অমর সৃষ্টি

হিন্দু পুরাণ জুড়ে রয়েছে বিশ্বকর্মার বিভিন্ন নির্মাণ। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি-চার যুগ ধরে ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বকর্মার অমর কীর্তিরা। সত্যযুগে বিশ্বকর্মা তৈরি করেছিলেন স্বর্গলোক। এই প্রাসাদ থেকেই দেবরাজ ইন্দ্রের মর্ত্যলোক শাসন করতেন। ত্রেতা যুগে বিশ্বকর্মা সৃষ্টি করেন সোনার লঙ্কা। দ্বাপর যুগে সৃষ্টি করেন দ্বারকা। কলিযুগে বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টি হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থ।
★★ সোনার লঙ্কা ::::: হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ত্রেতা যুগে রাবণ রাজার রাজধানী ছিল সোনার লঙ্কা। পার্বতীর সঙ্গে বিয়ের পর মহাদেব প্রাসাদ নির্মাণের ভার দেন বিশ্বকর্মাকে। স্বর্ণপ্রাসাদ নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা। গৃহপ্রবেশের পুজোর জন্য রাবণ রাজাকে আমন্ত্রণ জানান মহাদেব। পুজোর পর দক্ষিণা স্বরূপ মহাদেবের কাছে স্বর্ণলঙ্কা চান রাবণ। রাবণের হাতে স্বর্ণলঙ্কা তুলে দেন মহাদেব। সেই থেকেই রাবণের রাজধানী স্বর্ণলঙ্কা।
★★ দ্বারকা ::::: দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা বিশ্বকর্মার অমর সৃষ্টি। মহাভারতে দ্বারকাই কৃষ্ণের কর্মভূমি হিসেবে উল্লিখিত। হিন্দুদের অন্যতম দর্শনীয় ও পূজনীয় শহর দ্বারকা।
★★ হস্তিনাপুর :::: কলিযুগে কৌরব ও পাণ্ডবদের রাজধানী হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থও নির্মাণ করেন বিশ্বকর্মা। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে হস্তিনাপুরে অভিষিক্ত করেন কৃষ্ণ।
★★ ইন্দ্রপ্রস্থ :::: পাণ্ডবদের শহর ইন্দ্রপ্রস্থও নির্মাণ করেছিলেন এই বিশ্বকর্মাই। পাণ্ডবদের থাকার জন্য এক টুকরো জমি দিয়েছিলেন ধৃতরাষ্ট্র। সেই খাণ্ডবপ্রস্থে ভাইদের সঙ্গে থাকতেন যুধিষ্ঠির। পরে খাণ্ডবপ্রস্থে রাজধানী নির্মাণের জন্য
বিশ্বকর্মাকে আমন্ত্রণ জানান কৃষ্ণ। তৈরি হয় ইন্দ্রপ্রস্থ। এই ইন্দ্রপ্রস্থ ছিল মায়ানগরী। প্রাসাদের মাটি দেখলে মনে হত যেন স্বচ্ছ্ব জল টলটল করছে। পুকুরের স্বচ্ছ্ব জলের মধ্যে দিয়ে আয়নার মতো চকচক করতো মাটি। প্রাসাদ তৈরির পর পাণ্ডবদের নিমন্ত্রণ রক্ষায় ইন্দ্রপ্রস্থে যান কৌরবরা। মায়ানগরীর মায়া বুঝতে না পেরে পুকুরের জলে পড়ে যান দুর্যোধন। তাকে পড়ে যেতে দেখে হেসে উঠেছিলেন দ্রৌপদী। অন্ধ বাবার অন্ধ ছেলে বলে দুর্যোধনকে অপমান করেন দ্রৌপদী। এই ঘটনা থেকেই সূত্রপাত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের।

বিশ্বকর্মা বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকেয়র শক্তি প্রভৃতি তিনি তৈরি করেছেন। শ্রীক্ষেত্রর প্রসিদ্ধ জগন্নাথ মূর্তিও তিনি নির্মাণ করেছেন।
বিশ্বকর্মা পূজা হিন্দুদের একটি ধর্মীয় উৎসব। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আশিস কামনায় এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বকর্মা চতুর্ভুজ ও গজারূঢ়। তাঁর আকৃতি অনেকটা কার্তিকের মতো।

ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। কলকারখানায় বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে বিশ্বকর্মার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য দেব-দেবীর মতোই মূর্তি গড়ে অথবা ঘটে-পটে বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। সূতার-মিস্ত্রিদের মধ্যে এঁর পূজার প্রচলন সর্বাধিক। তবে বাংলাদেশে স্বর্ণকার, কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। এ সময় প্রত্যেকের ঘরে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয় এবং কোথাও কোথাও পূজার পরে ঘুড়ি ওড়ানো হয়।

সমগ্র ভারতবর্ষে নয়, বিশ্বকর্মা পুজো মূলত অসম, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড (দেরাদুন)-এর কিছু কিছু অঞ্চলে পালিত হয়। ভারতবর্ষের বিশ্বকর্মা একটি দলিত সম্প্রদায়ের নাম, বিশ্বকর্মা সেই সম্প্রদায়ের আদিম-সভ্য পুরুষ।। বিশ্বকর্মা পিছিয়ে-পড়া এক জনজাতির ঐতিহাসিক এবং অপ্রতিরোধ্য প্রতিভার বিরল দৃষ্টান্তবিশেষ।

Prasanta Das
Prasanta Das

Author

প্রশান্ত দাস মতিঝিল কলেজে অ্যাডমিন বিভাগের দ্বায়িত্বপূর্ন পদে কর্মরত । নানা বিষয়ে পড়াশুনা ও গবেষণা নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন , নতুন নতুন রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট , বাগান ও পরিবেশ সচেতন নাগরিক ও ছাত্রদরদী সোশিওলজির শিক্ষক ।

Advertisements IBGNewsCovidService
USD