সঙ্কটে গণমাধ্যম, বিপর্যয়কর চ্যালেঞ্জ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়ে গণমাধ্যমের স্ব-সংশোধন প্রয়োজন : উপরাষ্ট্রপতি

0
347
News-media-standards
News-media-standards
Azadi Ka Amrit Mahoutsav

সঙ্কটে গণমাধ্যম, বিপর্যয়কর চ্যালেঞ্জ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিষয়ে গণমাধ্যমের স্ব-সংশোধন প্রয়োজন : উপরাষ্ট্রপতি

By PIB Kolkata

নতুন দিল্লি, ১৮ই ডিসেম্বর, ২০২০ :গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সংহতিনাশক প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে খবরের সত্যতা বজায়  রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপরাষ্ট্রপতি শ্রী এম ভেঙ্কাইয়া নাইডু। জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রী নাইডু। উপরাষ্ট্রপতি আজ হায়দ্রাবাদ থেকে এমভি কামাথ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক বিষয়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ভাষণ দিচ্ছিলেন।  

গণমাধ্যমের স্বাধানতা, পৃষ্ঠপোষকতা, খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি মেনে চলা, সাংবাদিকদের সামাজিক কর্তব্য, সাংবাদিকতার মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় অবক্ষয়, ইয়েলো জার্নালিজম, অসত্য ও অর্থের বিনিময়ে খবর প্রভৃতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, ইয়েলো জার্নালিজম, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃষ্টি আকর্ষণী শিরোনাম প্রচার করে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার করে।  ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সম্প্রসারণ ও উত্থানের ফলে সাংবাদিকতার একটি নতুন দিকের উদ্ভব হয়েছে। “তৎক্ষণাৎ খবর” সরবরাহ সংক্রান্ত নতুন এই দিকটি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ এধরণের খবরের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার বেশি হয় এবং সাংবাদিকতার নিয়ম – নীতিগুলির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি আরো বলেন, ইন্টারনেট ব্যবস্থা খবর সংগ্রহ ও প্রচারের উৎসগুলিকেই বিঘ্নিত করেছে। মুদ্রণ মাধ্যমে যে সমস্ত সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পূর্ণ অন্য দৃষ্টিভঙ্গীতে প্রচার করা হয়ে থাকে।

সংবাদের সত্যতা সম্পর্কে এধরণের প্রচার সম্পূর্ণ অনৈতিক। এই প্রেক্ষিতে চিরাচরিত গণমাধ্যমগুলির অস্তিত্ব বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে তথ্য প্রচার ও সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে সংবাদ পত্রিকাগুলির কথা উল্লেখ করে শ্রী নাইডু বলেন, বিংশ শতাব্দীতে বেতার ও টেলিভিশনের উত্থানের পর বর্তমান ইন্টারনেটের যুগেও এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছেন যারা এখনও সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফির কাপ সহযোগে সংবাদপত্র পড়েন। উপরাষ্ট্রপতি জানান, তিনিও তাদের একজন।  গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা উল্লেখ করে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ ঈর্ষা বা ঘৃণার প্রকাশ নয়, বরং সহমত পোষণের একটি উপায়।

জনগণের ধ্যান ধারণা ও চিন্তাভাবনার সঠিক রূপদানের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে শ্রী নাইডু সমস্যার বিষয় তৈরি না করে সমাধান সূত্র খুঁজে বের করার অঙ্গ হয়ে ওঠার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান।  গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা যে সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে এবং তার ফলে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, সে সম্পর্কে শ্রী নাইডু এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য “স্ব-সংশোধন” –এর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি গণমাধ্যমগুলিকে উন্নয়নমূলক কর্মসূচীগুলির খবর প্রচারে আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। কোভিড – ১৯ মহামারীর সময় মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম যে ভূমিকা পালন করেছে, শ্রী নাইডু তার প্রশংসা করেন।  

Advertisements
IBGNewsCovidService
USD